রূপালী ডেস্ক
হজ ইসলামের অন্যতম শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত। দীর্ঘ পথ হাঁটা, ভিড়ের মধ্যে চলাফেরা এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে অনেক হাজি কোমর, হাঁটু ও পায়ের ব্যথায় আক্রান্ত হন। এই শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হজে যাওয়ার আগে ও চলাকালীন বিশেষ সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হজের আগে প্রস্তুতি:
যাওয়ার অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই শরীরকে প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস এবং হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম (বিশেষ করে কাফ মাসল ও কোমরের ব্যায়াম) পেশির সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
চলাফেরায় সচেতনতা:
হজ চলাকালীন হাড় ও পেশির ব্যথা এড়াতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন:
আরামদায়ক জুতা: দীর্ঘ পথ হাঁটার জন্য নরম ও আর্চ সাপোর্টযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত। নতুন জুতার পরিবর্তে পুরনো ও অভ্যস্ত জুতা পরা ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: এক কাঁধে ভারী ব্যাগ বহন না করে দুই কাঁধে সমানভাবে ওজন ভাগ করে নেওয়া উচিত।
সঠিক ভঙ্গি: চলাফেরার সময় কাঁধ সোজা রাখা এবং অতিরিক্ত সামনে ঝুঁকে না থাকা কোমর ও ঘাড়ের ব্যথা রোধে সহায়ক।
বিশ্রাম ও হাইড্রেশন: ক্লান্তি অনুভব করলে বিশ্রাম নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইট পান করা জরুরি, যাতে পেশিতে টান (ক্র্যাম্প) না পড়ে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা হাঁটু-কোমর ব্যথা আছে, তাদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন। ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হজে যাওয়ার আগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনে হাঁটু সাপোর্ট বা কোমরের বেল্ট ব্যবহার করা উচিত।
ব্যথা তীব্র হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে পবিত্র হজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।