রূপালী ডেস্ক
বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি এখন জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই (প্রায় ৯১ শতাংশ) এই প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলো এখন সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে দেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্বেগের সঙ্গে জানানো হয়, আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে। এমনকি ৩৩ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসেরও কম, যাদের এখনো টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি।
সংস্থাটি আরও জানায়, আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশই হয় কোনো টিকা পায়নি অথবা টিকার ডোজ পূর্ণ করেনি। এটি দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ‘স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলেই শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ভিটামিন-এ ঘাটতি থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকায় বাড়তি সচেতনতার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।