রূপালী ডেস্ক
দৈনন্দিন কাজে হাতের ব্যবহার অপরিহার্য, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় হাতের কোনো আঙুল ভাঁজ করতে গেলে আটকে যাচ্ছে অথবা সোজা করার সময় ‘ক্লিক’ শব্দের সাথে তীব্র ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ট্রিগার ফিঙ্গার’ বা ‘স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিস’। সাধারণত হাতের অনামিকা ও বৃদ্ধাঙুলির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতের টেনডন (টিস্যু) ফুলে গেলে বা এর আবরণ সংকুচিত হয়ে গেলে আঙুল নাড়াচাড়া করার সময় টেনডনটি আটকে যায়। এর ফলে পিস্তলের ট্রিগার চাপার মতো অনুভূতি হয় বলে একে ‘ট্রিগার ফিঙ্গার’ বলা হয়।
লক্ষণ ও ঝুঁকি:সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আঙুল শক্ত হয়ে বাঁকানো অবস্থায় থাকা।
আঙুল নাড়াচাড়ার সময় ‘পপিং’ বা ‘ক্লিকিং’ শব্দ হওয়া।
আঙুলের গোড়ায় ব্যথা, ফোলা ভাব বা ছোট পিণ্ড অনুভূত হওয়া।
টাইপিং, সেলাই, বাগান করা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের এই ঝুঁকি বেশি। এছাড়া নারী, ডায়াবেটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসা ও প্রতিকার:
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আঙুলে চাপ পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। দীর্ঘসময় মোবাইল বা কিবোর্ড ব্যবহারের অভ্যাস কমাতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি এই রোগে অত্যন্ত কার্যকর। টেনডন গ্লাইডিং ও স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ এবং আল্ট্রাসাউন্ড বা লেজার থেরাপির মাধ্যমে প্রদাহ কমানো সম্ভব। গুরুতর ক্ষেত্রে স্প্লিন্ট ব্যবহার, কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের মতে, আঙুলে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত অর্থোপেডিক বা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।