জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি পদের মধ্যে ৪৯ জন সংসদ সদস্য শপথ নিলেও একটি আসন নিয়ে আইনি জটিলতা কাটছে না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের সংসদ সদস্য পদের গেজেট প্রকাশ না করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন ওই দলেরই আরেক নেত্রী মনিরা শারমিন।
রোববার (৩ মে) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে মনিরা শারমিন এই দাবি জানান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি হাইকোর্টে প্রক্রিয়াধীন। এই শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হলে তিনি ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ সম্মুখীন হবেন।
জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন মনিরা শারমিন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও সেটি খারিজ হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ৪ মে (সোমবার) হাইকোর্টে এই রিটের শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াত জোটের শরিক দল এনসিপির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নও শুরুতে গ্রহণ করা হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয় এবং নির্বাচন কমিশন তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। নুসরাত তাবাসসুমের নাম বাদ রেখেই গত ৩০ এপ্রিল ৪৯ জন নারী সংসদ সদস্যের নামের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, মনিরা শারমিনের আবেদনের বিষয়টি তারা অবগত। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের রায়ের ওপরই এই আসনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। সোমবার (৪ মে) হাইকোর্ট যদি মনিরা শারমিনের পক্ষে রায় দেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনরায় যাচাই-বাছাই বা ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর যদি রিটটি খারিজ হয়ে যায়, তবে নুসরাত তাবাসসুমই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত হবেন এবং তার গেজেট প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন এমপি আজ রোববার রাতে শপথ গ্রহণ করেছেন। আইনি লড়াই আর গেজেট জটিলতার কারণে নুসরাত তাবাসসুমই এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী হিসেবে শপথের অপেক্ষায় রয়েছেন। আদালত থেকে সবুজ সংকেত পেলেই কেবল তার সংসদ সদস্য হওয়ার পথ চূড়ান্ত হবে।