রূপালী প্রতিবেদক, যশোর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেছেন, ‘চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে দুইটা ব্যালটে ভোট হয়েছে। একটিতে সংসদ নির্বাচনের, অন্যটিতে গণভোট। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ এই গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনের বলে বিএনপি সেই গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যা দেশের ২০ কোটি জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।’
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সংসদের ভেতরে সরকার এক ধরনের বক্তব্য দেয়, আর সাধারণ মানুষের সামনে ভিন্ন কথা বলে। এটা মুনাফেকি। এই দ্বিচারিতা দেশের জন্য অশুভ সংকেত। যারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তারা কখনো দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না।’
গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে যশোরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে গণমিছিল পূর্ব এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অথতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের কোর্ট মসজিদ মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে তিনি দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
যশোর জেলা নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শামসুজ্জামান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী, যশোর সরকারি এম এম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, এনসিপি যশোর জেলার প্রধান সমন্বয়ক মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, অফিস সেক্রেটারি নুর-ই আলী নূর আল মামুন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি রাশিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আশরাফ আলী এবং যশোর শহর আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়কে সন্মান জানিয়ে দ্রুত গণেভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের অধিকার আদায় করতে বাধ্য হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তিকে এসব দাবিসহ জনগণের সব অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল জজ কোর্ট মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মণিহার চত্বরে শেষ হয়।