প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দাদপুর স্কুল মাঠে বলরামপুর ও সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের অনূর্ধ্ব-১২ খুদে ফুটবলারদের অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই জমজমাট ম্যাচটি দেখতে মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় শত শত ক্রীড়াপ্রেমী ও উৎসাহী দর্শক।
উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে দুই গ্রামের খুদে ফুটবলাররা মাঠে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দেন। চমৎকার পাসিং ও গতিময় ফুটবলে পুরো প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধ মাতিয়ে রাখেন তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পুরো খেলাজুড়েই উভয় দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু উভয় দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষকদের চমৎকার নৈপুণ্যের কারণে নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোলমুখ খুলতে পারেনি। ফলে ম্যাচটি গোলশূন্য (০-০) ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
নির্ধারিত সময়ে ফলাফল না আসায় খেলা গড়ায় রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে। স্নায়ুক্ষয়ী এই টাইব্রেকারে লড়াইয়ে চরম নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সৈয়দ মাহমুদপুর ফুটবল একাদশ। তারা নিখুঁত শটে ৪টি গোল নিশ্চিত করে জয় তুলে নেয়। অন্যদিকে, বলরামপুর ফুটবল একাদশ ৩টি গোল করতে সক্ষম হয়।
ম্যাচ শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপস্থিতিতে বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। জমজমাট এই লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজেদের করে নেয় সৈয়দ মাহমুদপুর ফুটবল একাদশ, যার পক্ষে ট্রফি গ্রহণ করেন দলের ক্যাপ্টেন অঙ্কন। অন্যদিকে, দুর্দান্ত লড়াই করেও রানার্স আপ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বলরামপুর ফুটবল একাদশকে, যাদের পক্ষে ট্রফি গ্রহণ করেন দলের ক্যাপ্টেন দর্শন বিশ্বাস বর্ণ।
খুদে খেলোয়াড়দের এই নান্দনিক ফুটবল নৈপুণ্য ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব উপস্থিত সকল দর্শকের মন জয় করেছে। এ খেলার মূল আয়োজক ছিলেন দর্শন বিশ্বাস বর্ণ। খেলায় রেফারির দায়িত্বে ছিলেন আলাউদ্দিন ও জিসান হোসেন। উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের প্রীতি ম্যাচ আয়োজন এলাকার গ্রামীণ পর্যায়ে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে এবং খুদে খেলোয়াড়দের খেলাধুলায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পুরষ্কার বিতরণ ও উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব জালাল মোল্লা, শাহীন রেজা, তাপস ঘোষ, ইমরান হোসেন, বাবু ঘোষ, উজ্জ্বল বিশ্বাস, সরজিত ঘোষ, সবুজ হোসেন, ইমামুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।