রূপালী প্রতিবেদক, যশোর
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের তিন ব্যবসায়ীর লাইসেন্স ও ডিলারশিপ যাচাইয়ের দাবিতে জেলা প্রশাসক এবং সার ও কীটনাশক মনিটরিং কমিটির কাছে আলাদা তিনটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিযোগপত্রগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মতিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শামসুজ্জোহা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুকুরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাঁর বড় ভাই আওয়ামী লীগ আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদ পেয়েছিলেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শামসুজ্জোহা যে ঘরে ব্যবসা করেন, সেটি রাস্তা থেকে প্রায় তিন ফুট নিচুতে হওয়ায় বৃষ্টিতে গুদামে পানি ঢোকে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘরের দলিলে দাগ ও খতিয়ানে ভুল আছে এবং একই ঘরের জন্য দুই নামে দুটি ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেক অভিযোগে ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার ফয়সাল জামানের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বুধপুর গ্রামের মো. খোকনউজ্জামানের ছেলে। তাঁর পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত এবং তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ও কর্মী ছিলেন।
তাঁরা আরও বলেছেন, তথ্য গোপন করে এবং কতিপয় অসাধু নেতার সহযোগিতায় তিনি টিসিবির ডিলার লাইসেন্স নিয়েছেন। এখন সার ও কীটনাশক ডিলার লাইসেন্সের জন্যও আবেদন করেছেন। বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগটি মোল্যা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইরাদ আলী মোল্যার ছেলে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তিনি ও তাঁর পরিবার বিএনপির সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর ব্যবসার ঘরের দলিলে দাগ ও খতিয়ানে ভুল আছে এবং সরকারি চাহিদা অনুযায়ী পণ্য মজুত রাখার সক্ষমতাও ঘরটির নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।