নূরুল ইসলাম
জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে সরকার মোটেও ঠিক করেনি। উল্টো পানি আরো ঘোলাটে করেছে। এরকম অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার মূলত নিজের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। বস্তুত, এই সিদ্ধান্তে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা আরো সামনে আসছে।
বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার ও ব্যাগ থেকে মালামাল চুরি ও জমজমের পানি গায়েবসহ নানান অভিযোগের ভিত্তিতে মেজর আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের পরিচালককে কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন। ফ্যাক্ট সবারই জানা। জামায়াতের ৩৪ এমপিকে দীর্ঘ তিন ঘন্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঝেরে আখতারুজ্জামান ক্ষেপেছিলেন। তাঁর ক্ষোভের যথেষ্ট ফ্যাক্ট ছিল।
কিন্তু সরকার কী করেছে? বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির বিরুদ্ধে যথাযথ স্টেপ না নিয়ে একজন ভুক্তভোগী নাগরিককে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। কতটা অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত, অনুমান করতে পারছেন? রাষ্ট্র আপনাকে ইচ্ছামতো হয়রানি করবে, কিন্তু আপনি তার বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারবেন না। বললে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাবে।
মিরপুরে বিএনপির নারী কোটার এমপি হাসপাতাল ভেঙ্গে জমি দখল করেছিল। এটা স্পষ্টই ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু সরকার তাকে গ্রেফতার না করে জাস্ট এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করিয়েছে-হাই লেভেলের আই ওয়াশ। অথচ মেজর আখতারুজ্জামান কোন ধরনের ফৌজদারি অপরাধ করেননি। জাস্ট হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কোটি কোটি প্রবাসীর কণ্ঠস্বর হয়েছেন। তাতেই গ্রেফতার।
মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াত নেতা। এই কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের অযোগ্যতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন; এই কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাধারণ জনগণের সেবার মানোন্নয়নের জন্য কথা বলেছেন; এই কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা স্পষ্টই নির্লজ্জতা। জনগণের সেবার মানোন্নয়নে যথাযথ স্টেপ না নিয়ে উল্টো মেজরের কণ্ঠরোধ করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী সহজেই সরকারের এই অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তকে ছেড়ে দিবে না। অলরেডি বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সরকার যেহেতু পানি ঘোলাটে করেছে; এর পরিণাম কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তার অপেক্ষায় আছি। সর্বোপরি, মেজর আখতারুজ্জামানের পক্ষে আছি। অনতিবিলম্বে তাঁকে মুক্ত করে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে অযথা হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে যথাযথা স্টেপ নিতে হবে। দ্যাটস ইট। (ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)