রূপালী প্রতিবেদক, যশোর:
যশোরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমিনিয়া কামিল মাদরাসার সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মাওলানা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তিনি এই মাদরাসারই প্রাক্তন ছাত্র, সাবেক শিক্ষক এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন তাঁরই পিতা প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মোঃ মোস্তফা। পিতার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে স্থানীয়দের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-এর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী এবং সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ শাহ নেওয়াজ স্বাক্ষরিত এক পত্রে (স্মারক নং- ইআবি/রেজি/প্রশা/কা.গ.ব/খ-৬৭/২০২০/৫০০) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর আমিনিয়া কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা নূরুল ইসলামের পিতা মাওলানা মোঃ মোস্তফা। পিতার স্মৃতিবিজড়িত এই প্রতিষ্ঠানেই ইবতেদায়ী (প্রাথমিক) স্তর থেকে মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলামের শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয়। ১৯৭৬ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে এই মাদরাসা থেকে ফাজিল (স্নাতক) সম্পন্ন করেন। তবে সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে কামিল কোর্স চালু না থাকায় তিনি ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে ১৯৭৮ সালে কামিল (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি অর্জন করেন।
কামিল পাসের ফলাফল প্রকাশের পরপরই ওই বছর (১৯৭৮ সালে) তিনি নিজের শৈশবের বিদ্যাপীঠ আমিনিয়া মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৪৩ বছরের সফল শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ তিনি এই প্রতিষ্ঠান থেকেই অবসরে যান।
অবসরের পর এবার সভাপতি হিসেবে নতুন করে তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের খবরে মাদরাসার শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানটির একেবারে শেকড় থেকে উঠে আসা এই গুণী ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে যশোর আমিনিয়া কামিল মাদরাসা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।