রূপালী ডেস্ক
স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি—বর্তমান বিশ্বের শক্তি সচল রাখা ব্যাটারি প্রযুক্তিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ সময় চার্জ দেওয়ার ঝক্কি আর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার দিন শেষ করতে আসছে ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একদল গবেষক বিশ্বের প্রথম কার্যকরী কোয়ান্টাম ব্যাটারির প্রটোটাইপ প্রদর্শন করেছেন।
চার্জিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে দেবে ‘সুপার অ্যাবজরপশন’:
কোয়ান্টাম ব্যাটারির সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ‘সুপার অ্যাবজরপশন’ ক্ষমতা। সাধারণ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি যত বড় হয়, চার্জ হতে তত বেশি সময় লাগে। কিন্তু কোয়ান্টাম ব্যাটারির ক্ষেত্রে বিষয়টি ঠিক উল্টো—এটির আকার যত বড় হবে এবং এতে যত বেশি কোয়ান্টাম ইউনিট থাকবে, এটি তত দ্রুত চার্জ হবে। অর্থাৎ, একটি সাধারণ ব্যাটারি চার্জ হতে যেখানে এক ঘণ্টা লাগে, সমমানের একটি বড় কোয়ান্টাম ব্যাটারি হয়তো মাত্র এক সেকেন্ডে পূর্ণ চার্জ হয়ে যাবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবক:
ড. জেমস কোয়াচের নেতৃত্বে গবেষক দলটি অর্গানিক সেমিকন্ডাক্টিং পলিমার ব্যবহার করে একটি বিশেষ প্রকোষ্ঠ তৈরি করেছেন। সেখানে কোয়ান্টাম এন্টারঙ্গেলমেন্ট ও সুপার অ্যাবজরপশন নীতি প্রয়োগ করে আলোকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এর উন্নত সংস্করণগুলো সফল প্রমাণিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব:
১. তাৎক্ষণিক চার্জিং: ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন চার্জ হতে লাগবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
২. বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) যুগ: ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার চেয়েও কম সময়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি পূর্ণ চার্জ করা সম্ভব হবে।
৩. পরিবেশবান্ধব: এতে লিথিয়ামের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয় না এবং এর স্থায়িত্বও সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে অনেক বেশি।
৪. মহাকাশ গবেষণা: বিশাল পরিমাণ সৌরশক্তি দ্রুত সঞ্চয় করার ক্ষমতার কারণে এটি মহাকাশ অভিযানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, কোয়ান্টাম ব্যাটারি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর সফল পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে, আমরা এক নতুন জ্বালানি যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি যেখানে ‘চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার’ চিন্তা হবে সুদূর অতীত।