রূপালী ডেস্ক
মার্কিন সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রচলিত মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের পরিবর্তে নিজস্ব লিনাক্সভিত্তিক ইকোসিস্টেম চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারমিনিস্টেরিয়াল ডিরেক্টরেট ফর ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স।
ফ্রান্সের জনপ্রশাসন ও হিসাবমন্ত্রী ডেভিড আমিয়েল এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, রাষ্ট্র কোনোভাবেই বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। মূলত তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং মার্কিন টেক জায়ান্টদের ডেটা নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতেই এই বড় পরিবর্তন। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের রূপান্তর বা মাইগ্রেশন পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসছে ‘ফ্রান্স-ওএস’ ও নিজস্ব সফটওয়্যার:
ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর সফল লিনাক্স সংস্করণ ‘জেন্ডবুন্টু’ (GendBuntu)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে নতুন জাতীয় অপারেটিং সিস্টেম ‘ফ্রান্স-ওএস’ (FranceOS)। এটি মূলত উবুন্টু ২৬.০৪ (এলটিএস) সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এছাড়া গুগল ও মাইক্রোসফটের বিকল্প হিসেবে তারা ‘লা সুইট নিউমেরিক’ নামের নিজস্ব সফটওয়্যার স্যুট ব্যবহার করবে।
মার্কিন অ্যাপের যেসব বিকল্প থাকছে:
উইন্ডোজ ও মার্কিন অ্যাপ বর্জনের তালিকায় মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বদলে থাকছে ‘লিব্রে অফিস’ (LibreOffice), ব্রাউজার হিসেবে ‘ফায়ারফক্স’ এবং গ্রাফিক্সের জন্য ‘জিম্প’ (GIMP)। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে জুম বা টিমসের পরিবর্তে ২০২৭ সালের মধ্যে নিজস্ব ‘ভিসিও’ (Visio) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও চ্যাটিংয়ের জন্য ‘চ্যাপ’ (Tchap) এবং ক্লাউড স্টোরেজের জন্য ‘ফিশিয়ার্স’ (Fichiers) ব্যবহার করবে ফরাসি প্রশাসন।
বিশাল সাশ্রয়:
ফরাসি সরকারের হিসাবমতে, উইন্ডোজের লাইসেন্স ফি বর্জন করে লিনাক্সে স্থানান্তরের ফলে কেবল পুলিশ বাহিনীতেই বছরে ২০ লাখ ইউরো সাশ্রয় হচ্ছে। পুরো দেশজুড়ে এটি কার্যকর হলে প্রতি বছর সরকারের সাশ্রয়ের পরিমাণ ৪ কোটি ইউরো (প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে যাবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের এই সাহসী পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোকেও মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরিতে অনুপ্রাণিত করবে।