রূপালী ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি পর্যালোচনার কথা জানালেও এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রোববার (৩ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাবের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে—মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। বিনিময়ে পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের আগেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে জানান, গত ৪৭ বছরে ইরান বিশ্বের যে ক্ষতি করেছে, তার জন্য তারা এখনও যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানকে কোনো প্রকার অর্থ প্রদান করলে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন ওয়াশিংটনের। তারা চাইলে কূটনৈতিক পথে হাঁটতে পারে, নতুবা ইরান সংঘাতের জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত। মূলত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করতে নারাজ, যা নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটছে না।