রূপালী ডেস্ক
ইরান ইস্যু নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সেনা সংখ্যা হ্রাস: বর্তমানে জার্মানিতে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি (প্রায় ৩৬,৪০০ সেনা) রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম সরিয়ে নেওয়া হবে এবং পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের পরিকল্পিত লং-রেঞ্জ ফায়ার্স ব্যাটালিয়ন মোতায়েনও বাতিল করা হয়েছে।
বিরোধের সূত্রপাত: সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারৎজ ট্রাম্পের ইরান কৌশলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের কোনো সঠিক ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ নেই এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিব্রত করছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই মন্তব্যকে ‘অনুপযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্যান্য মিত্রদের ওপর প্রভাব: কেবল জার্মানি নয়, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে স্প্যানিশ সরকার তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ইরান যুদ্ধে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের অভিমত: আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা সংকটে পড়বে। এটি জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বাধ্য করবে।
জার্মান কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তারা ঘাঁটি ব্যবহার ও প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহায়তা করে আসছিলেন। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মিত্রদের অসহযোগিতা ও সমালোচনা তারা হালকাভাবে নেবে না।