রূপালী ডেস্ক
রাজধানীর আগারগাঁও সেকেন্ড গেট এলাকার ব্যস্ত ফুটপাত। চারদিকে ধুলোবালি, গাড়ির হর্ন আর মানুষের ভিড়। এই কোলাহলের মাঝেই গত ৩৫ বছর ধরে প্রতিদিন রিকশা মেরামতের সরঞ্জাম নিয়ে বসে থাকেন ৬৩ বছর বয়সী আলি মোহাম্মদ। জীবনের বড় একটা অংশ এই ফুটপাতেই কাটিয়ে দিলেও, তার ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি আজও।
ভোরবেলা থেকেই শুরু হয় তার ব্যস্ততা। রিকশার চেইন ঠিক করা, ব্রেক মেরামত—এসব ছোটখাটো কাজই তার জীবিকা। গ্রামের মাটি ছেড়ে বহু বছর আগে সচ্ছলতার আশায় ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। সন্তানদের বড় করেছেন, বিয়ে দিয়েছেন; কিন্তু আজ বার্ধক্যে এসে তারা আলাদা হয়ে যাওয়ায় অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে আলি মোহাম্মদকে লড়তে হচ্ছে একাকী।
আলি মোহাম্মদ জানান, একসময় দিনে ৪০০ টাকা আয় করলে সংসার ভালোভাবে চলত, কিন্তু এখন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেও হিমশিম খেতে হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ, কিন্তু এখনো জোটেনি কোনো বৃদ্ধ ভাতা বা সরকারি সহায়তার কার্ড। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “শরীল আর আগের মতো সাড়া দেয় না, কিন্তু বাঁচার তাগিদে ফুটপাতেই বসতে হয়। ওষুধের খরচ জোগানোই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
দীর্ঘ ৩৬ বছরে বহু সরকারের পরিবর্তন দেখলেও নিজের জীবনে পরিবর্তন না আসায় কিছুটা ব্যথিত আলি মোহাম্মদ। তবে তার চোখে এখনো একটি ছোট স্বপ্ন উঁকি দেয়। তিনি আশা করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মতো অসহায় মানুষের প্রতি সদয় হবেন। অন্তত একটি বৃদ্ধ ভাতা বা সহায়তার কার্ড পেলে জীবনের শেষ সময়টুকু সম্মানের সাথে কাটাতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস।
তার কাছে নিয়মিত রিকশা মেরামত করতে আসা চালক মনোয়ার হোসেন বলেন, “আলি মোহাম্মদ ভাই এই এলাকার অত্যন্ত সিনিয়র এবং দক্ষ মিস্ত্রি। তিনি খুব দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না।”
ফুটপাতের ধুলো আর অনিশ্চয়তার মাঝে কাটানো এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে আলি মোহাম্মদের চাওয়া এখন সামান্যই—একটু স্বস্তি আর একটু নিরাপত্তা। রাষ্ট্রের সহায়তা পেলে এই বৃদ্ধ বয়সে হয়তো তাকে আর রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফুটপাতে লড়াই করতে হতো না।