রূপালী ডেস্ক
সামান্য মাথাব্যথা কিংবা সর্দি-কাশি হলে এখন অনেকেই চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি গুগলে উপসর্গ লিখে সার্চ করেন। ইন্টারনেটে স্বাস্থ্য তথ্য খোঁজার এই প্রবণতা বিশ্বে ‘ডা. গুগল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গুগল আপনাকে তথ্য দিতে পারে, কিন্তু চিকিৎসা নয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো আপনার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সাইবারকন্ড্রিয়া ও মানসিক অস্থিরতা
চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ক্রমাগত অনলাইনে অনুসন্ধানের আসক্তিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘সাইবারকন্ড্রিয়া’ বলা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রশ্ন গুগলে করা হয়। এই অভ্যাসের ফলে সামান্য কোনো উপসর্গকেও গুগল অনেক সময় বড় কোনো রোগের সাথে মিলিয়ে দেয়, যা ব্যক্তির মনে তীব্র ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ফলে স্নায়বিক রোগ ও মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।
কেন গুগলের ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ?
১. ব্যক্তিগত ইতিহাস অজানা: গুগল আপনার শরীরের ধরণ, পারিবারিক চিকিৎসার ইতিহাস বা বর্তমানে আপনি কী ওষুধ খাচ্ছেন তা জানে না। অথচ সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এগুলো অপরিহার্য।
২. ভুল রোগ নির্ণয়: গবেষণায় দেখা গেছে, গুগল অনুসন্ধানের ফলের সাথে ল্যাবরেটরি টেস্ট বা চিকিৎসকের রোগ নির্ণয়ের মিল খুব কমই থাকে। যেমন—বাম হাতে ব্যথা হলে গুগল হৃদরোগের শঙ্কা দেখাতে পারে, অথচ এটি পেশীর সাধারণ টানও হতে পারে।
৩. ভুল ওষুধ ও মৃত্যুঝুঁকি: অনলাইনে তথ্য দেখে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বা অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। যুক্তরাজ্যে এক শিক্ষার্থী অনলাইনে পরামর্শ নিয়ে ওজন কমানোর ট্যাবলেট খেয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করেন।
৪. সুপারবাগের ঝুঁকি: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভুল মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শরীরে ‘সুপারবাগ’ তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে কোনো ওষুধেই সারে না।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
গবেষক ও চিকিৎসকদের মতে, রোগ নির্ণয় একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া যার জন্য দীর্ঘ পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। গুগল কেবল সাধারণ কিছু তথ্য দেয়। কিন্তু শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ভুল ওষুধ সেবন প্রাণঘাতী হতে পারে।
তাই সুস্থ থাকতে বা সঠিক চিকিৎসা পেতে অযথা গুগলে সার্চ করে দুশ্চিন্তা না বাড়িয়ে সরাসরি একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে রাখবেন, গুগল তথ্যের উৎস হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই আপনার চিকিৎসকের বিকল্প নয়।