রূপালী ডেস্ক
রাজধানীর ব্যস্ততম রমনা এলাকায় আধুনিক স্থাপত্যের ভিড়ে মোগল আমলের আভিজাত্য নিয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ ও মাজার কমপ্লেক্স। ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে মোগল সুবাহদার শাহজাদা মুহম্মদ আজমের শাসনামলে নির্মিত এই স্থাপনাটি ৩৪৬ বছর ধরে কালের সাক্ষী হয়ে আছে। একে রমনা এলাকার প্রথম স্থায়ী স্থাপনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলা একাডেমি ও হাইকোর্টের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি মূলত তিন গম্বুজ মসজিদ, লাল মসজিদ বা কারো কাছে ‘জ্বীনের মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কাশ্মীরি ব্যবসায়ী ও সুফি সাধক হাজী খাজা শাহবাজ। জনশ্রুতি রয়েছে, তিনি নিজের জীবদ্দশাতেই এই মসজিদ ও মাজারটি নির্মাণ করেছিলেন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি উত্তর ভারতীয় মোগল রীতির অনুকরণে তৈরি। আয়তাকার এই মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৬৮ ফুট ও প্রস্থে ২৬ ফুট। এতে তিনটি বড় গম্বুজ রয়েছে যা পদ্ম ও কলস চূড়া দিয়ে সজ্জিত। মসজিদের অভ্যন্তরে কালো পাথরের তৈরি মিম্বর ও চৌকাঠ এবং কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পর্যটকদের নজর কাড়ে। মসজিদের পাশেই রয়েছে হাজী খাজা শাহবাজের সমাধিসৌধ, যা দেখতে অনেকটা মসজিদের মতোই।
বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। যদিও সামনের ‘তিন নেতার মাজার’-এর কারণে মসজিদের মূল সৌন্দর্য অনেকটা আড়ালে পড়ে আছে, তবুও ঢাকার মোগল মসজিদগুলোর মধ্যে এটি এখনো বেশ ভালো অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। প্রায় ৩৪০ বছর ধরে শেখ শরিয়ত গোষ্ঠী বংশপরম্পরায় এই মসজিদ ও মাজারের দেখাশোনা করে আসছে। শত শত বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এই জীবন্ত দলিল আজও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ।