রূপালী ডেস্ক
শরিয়াহভিত্তিক দুর্বল পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে স্থিতি ফেরানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব এবং ‘ব্যাংক রেজ্যুলুশন আইন-২০২৬’-এর কারণে এই প্রক্রিয়াটি এখন সিদ্ধান্তহীনতার জালে আটকে গেছে। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
একীভূত হওয়া এই পাঁচটি ব্যাংক হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। বিগত সরকারের আমলে এসব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।
বর্তমান সংকটের মূল কারণ:
১. আইনি জটিলতা: সম্প্রতি সংশোধিত ‘ব্যাংক রেজ্যুলুশন আইন-২০২৬’ পাসের ফলে ব্যাংকগুলোর আগের মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে আমানতকারীরা আশঙ্কা করছেন, লুটপাটে জড়িতরা আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরলে তাদের সঞ্চয় আরও ঝুঁকিতে পড়বে।
২. নেতৃত্বের অভাব: ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হলেও এর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেননি। ফলে কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে সংস্কার কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।
৩. আলাদা হওয়ার প্রবণতা: একীভূত থাকার পরিবর্তে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) ইতোমধ্যে স্বতন্ত্রভাবে চলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। এক্সিম ব্যাংকও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গভর্নরের বক্তব্য ও তারল্য সংকট:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি দুটি বিকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন— হয় করদাতার টাকা দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে হবে, অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাংকটিকে পুনরায় মূলধন সরবরাহ (রি-ক্যাপিটালাইজড) করতে হবে।
এদিকে, এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যাংকগুলোর তারল্যের ওপর। নতুন আমানত আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং পুরনো গ্রাহকরা টাকা তোলার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছেন। ব্যাংকগুলোর প্রশাসকরা সরকারের কাছ থেকে দ্রুত ও স্পষ্ট বার্তা চেয়েছেন, যাতে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।