রূপালী ডেস্ক
জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশে গতি ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমেছে ৩ শতাংশ এবং এলসি নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ। শুধু যন্ত্রপাতিই নয়, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগ ও বিদ্যমান উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ সুদহার, ডলারের চড়া দাম এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক অস্থিরতা, যার ফলে রপ্তানি আয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে টান পড়েছে। ফলে উদ্যোক্তারা নতুন প্রকল্প গ্রহণ বা পুরনো কারখানা সম্প্রসারণে সাহস পাচ্ছেন না।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এম হেলাল আহম্মেদ জনি বলেন, "বিনিয়োগের প্রাণ হলো মূলধনী যন্ত্রপাতি। এটি কমলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং এসডিজি অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"
বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ব্যাংকাররা বলছেন, ঋণের এই সামান্য প্রবৃদ্ধির বড় অংশই মূলত ঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে হয়েছে, নতুন বিনিয়োগের কারণে নয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কিছু সূচকে স্থিতিশীলতা এলেও নীতিগত সহায়তা ও জ্বালানি সংকটের সমাধান না হলে বিনিয়োগের এই দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা কাটানো সম্ভব হবে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।