ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানীহাট জিসি থেকে রামনাথহাট আরএইচডি সড়ক (আখানগর ইউপি অফিস হয়ে) উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকার এই প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩ জুলাই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ, কোথাও ভাঙা সড়ক, কোথাও ধুলার স্তুপ—এ যেন উন্নয়ন নয়, দুর্ভোগ তৈরির এক নির্মম উদাহরণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী। বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া সুরকি, নিম্নমানের ইট—সব মিলিয়ে সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচল করলেই ধুলার ঝড় উঠছে, যা আশপাশের পরিবেশকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ ও চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধুলা আর ভাঙাচোরা রাস্তা পাড়ি দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তবুও যেন কারও কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
এছাড়া সড়কের সীমানাজুড়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি, যা অপসারণ না করায় কাজের অগ্রগতি আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে কাজ বন্ধ, অন্যদিকে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। ধুলা থেকে রক্ষা পেতে কিছু এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে সড়কে পানি ছিটাচ্ছেন।
ভেলারহাট এলাকার বাসিন্দা হোসেন আলী জানান, “এ রাস্তাটি আমাদের রুহিয়ায় যাওয়ার প্রধান সড়ক। কিন্তু তিন বছরেও কাজ শেষ হয়নি। মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। তাই দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করে পিস ঢালাই করার দাবি জানাচ্ছি।”
ঠিকাদার আইনুল হক মুঠোফোনে জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিটুমিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং দেশে সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “বিটুমিন সংকটের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু করলেও হঠাৎ সংকট দেখা দেওয়ায় তা থমকে যায়। পর্যাপ্ত বিটুমিন পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ পুনরায় শুরু করে শেষ করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, সড়কের অনেক জায়গায় রাস্তার সীমানার মধ্যে গাছ থাকায় কাজ এগিয়ে নিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, “অচিরেই এসব গাছ অপসারণ করে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন অংশে খুব শিগগিরই পুনরায় কাজ শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।”