rupalibangla
rupalibangla rupalibangla rupalibangla rupalibangla rupalibangla
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

শিরোনাম

শপথ নিয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ভারতের ৫ রাজ্যের নির্বাচনে ১০৭ মুসলিম প্রার্থীর জয় যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে ৯ মে যশোরে ৫ সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ৭৮ নবীন আইনজীবীকে বরণ: দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার শপথ শাপলা থেকে জুলাই বিপ্লব : এ ভূখণ্ডের রক্তের ঋণ বগুড়া শাহ সুলতান কলেজে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ; দায় চাপানো হচ্ছে শিবিরের ওপর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ : সাড়ে ৫ বছরে অগ্রগতি ৫ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন : ক্ষমতায় বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ নুসরাত তাবাসসুমের
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বৈদেশিক সাহায্য ও ধারকর্জের ভূমিকা কোন পর্যায়ে

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ মে,২০২৬, ১১:০১ এ এম
বৈদেশিক সাহায্য ও ধারকর্জের ভূমিকা কোন পর্যায়ে

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যুদ্ধবিধস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন, পরবর্তীকালে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনীতির চালিকাশক্তির প্রধান খাতগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলা ও নানান সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ ও ধারকর্জ করতে হয়েছে। এ সাহায্য গ্রহণের সময় খাতভিত্তিক প্রয়োজন ও উপযোগিতার ভিত্তিতে শর্তাদি যথাযথ বিবেচনা ও পরীক্ষা পর্যালোচনা, যথাসময়ে দক্ষতার সাথে সদ্ব্যবহারের দ্বারা দ্রুত রিটার্ন প্রাপ্তির লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য।

বিদেশী ঋণের সুদের কিস্তি ও রেয়াতকাল শেষে আসল পরিশোধের ক্রমবর্ধমান বোঝা এখন বাংলাদেশের রাজস্ব বাজেটের অন্যতম ব্যয় খাত। ক্রমান্বয়ে বিদেশী দায় পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমানে যেসব হার্ড টার্মের, সাল্লায়ার্স ক্রেডিট প্রকৃতির ধারকর্জ করা অব্যাহত আছে তাতে সামনে দায়দেনা পরিশোধের চাপ আরো বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ না বাড়লে বৈদেশিক দায়দেনা পরিশোধের সহনীয় মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিদেশী সাহায্য গ্রহণকারী অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়ার কথা নয়, যদি বিদেশী সাহায্য প্রয়োজনীয় সময়ে গ্রহণ করে উপযুক্ত খাতে দ্রুততার সাথে ব্যয় ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সংসারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে নিজের সীমিত সম্পদকে অধিকতর উপযোগী অবস্থায় পাওয়ার জন্যই তো ঋণ বা সাহায্যের প্রত্যাশী হওয়া।

গৃহীত সাহায্য ও ঋণ যদি তার ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জনে তথা স্বয়ম্ভর ও উৎপাদনমুখী অবস্থার পরিণতিতে না পৌঁছে দেয় তাহলে একসময় কর্জের টাকা সুদসহ শোধ করতে হলে তো ত্রাহি মধুসূদন পরিস্থিতির উদ্ভব হবেই। গোষ্ঠী, পারিবারিক ও স্বৈরতান্ত্রিক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বেশ কয়েকটি হতভাগ্য অর্থনীতির দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেউলিয়া হওয়ার উদাহরণ আছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এমন অবস্থায় পড়েনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান ব্যাঘ্র নামে খ্যাত নব্য শিল্পায়িত দেশগুলো। তাদের সফলতা ও ব্যর্থতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক সাহায্যের ও ধারকর্জের ভূমিকা এখন কোন পর্যায়ে।

এটা স্পষ্ট যে, ১৯৭২-২০১২ সাল পর্যন্ত ৪০ বছরে যেখানে ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশী সাহায্য এসেছে, সেখানে পরবর্তী বারো বছরে ব্যবহৃত হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যার গড়ে ৯৬ শতাংশ ঋণ এবং দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকেই এসেছে। এ সময়ে বহুপক্ষীয় উৎস থেকে প্রাপ্ত ঋণের সুদের হার ও পরিশোধকাল যথেষ্ট সহনীয় (সফট) পক্ষান্তরে দ্বিপক্ষীয় (জাপান ছাড়া) উৎস থেকে গৃহীত ঋণ চড়া সুদে, পরিশোধকাল সীমিত অর্থাৎ কঠিন শর্তের। কোনো দেশ অব্যাহতভাবে অনন্তকাল বৈদেশিক সাহায্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না।

বৈদেশিক সাহায্য সহায়তা সীমিত সময়ের জন্য গ্রহণ করে নিজেকে স্বয়ম্ভর করে তোলাই শ্রেয়। কেননা সহায়তা সবসময় একই পরিমাণে, শর্তে ও উৎস থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। বিশ্বের আর্থ রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের ওপর সাহায্য সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারতম্য ঘটে। নব্বই দশকের আগ পর্যন্ত সারাবিশ্ব ছিল দুটি শিবিরে বিভক্ত। বাংলাদেশের মতো প্রার্থী দেশের সংখ্যা তখন ছিল গোটা বিশেকের মতো। দুই শিবিরই চাইত এসব উন্নয়নশীল দেশকে সাহায্য করে নিজেদের প্রভাব বলয়ে রাখতে। ফলে সাহায্য সহযোগিতা প্রাপ্তির ব্যাপারে তেমন একটা বেগ পেতে হতো না।

ঋণ পেলেও সহজ শর্ত তো ছিলই, এমনকি দ্বিপক্ষীয় ঋণ মওকুফও হয়ে যেত। বহুপক্ষীয় সংস্থা থেকে পাওয়া ঋণের ক্ষেত্রে শর্ত বা খবরদারিও ততটা ছিল না। নব্বই-এর দশকে ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানে বিশ্ব এখন এক শিবিরের নেতৃত্বে এবং সাহায্য প্রার্থী দেশের সংখ্যাও বেড়েছে। এখন বাড়তি খাতিরের কারণ আর নেই। ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিপক্ষীয় ঋণ সহায়তা বেশ ওঠানামা করেছে এবং এমনকি বহুপক্ষীয় ঋণপ্রাপ্তিও দুরূহ হচ্ছে। ঋণ অনুমোদনে শর্ত ও খবরদারিও বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার স্বীকৃতি পেতে হলে সহজ শর্তের ঋণ মিলবে না, কঠিন শর্তের ঋণ নিয়ে তা শোধ করার সক্ষমতা অর্জন বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আসন্ন বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে গৃহীত মোট প্রকল্প ঋণের শতকরা ২৫.১২ ভাগ ব্যবহৃত হয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে, শতকরা ২৩.৭৮ ভাগ পরিবহন ও যোগাযোগ (সড়ক সেতু রেলওয়ে, টিঅ্যান্ডটি আইটি স্যাটেলাইট) খাতে। বাংলাদেশ অর্থনীতির প্রাণ কৃষি ও পানিসম্পদ খাতে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ১০. ৪৭ ভাগ। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের মতো সামাজিক খাতগুলোয় ব্যবহারের পরিমাণ একুনে ১২.৭৭ ভাগ। তাহলে দেখতে হবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগকৃত বিপুল ঋণের টাকা বাঞ্ছিত ও টেকসই উন্নয়নে সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে কি না। উন্নয়ন অর্থবহ করতে হলে এ পর্যালোচনা প্রয়োজন।

বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তিকে কখনো উন্নয়নের বিশেষ সাফল্য হিসেবে ফলাও করে প্রচার করা হয়। আবার কখনো দাতাদেশ ও সংস্থার আরোপিত নানান সংস্কার কর্মসূচির প্রেসক্রিপশন পালনেও বৈদেশিক সাহায্য নেয়া, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে বিদেশী কনসালট্যান্ট দিয়ে দেশের মানবসম্পদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়াসের নামে প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে বরং বিদেশী সাহায্যনির্ভর ও আরামপ্রিয় করে তোলার আত্মঘাতী অবস্থা উপযুক্ত পর্যালোচনায় আনা হয় না।

এমনকি ঋণ নিয়ে সেই টাকা অনুদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে দারিদ্র্যবিমোচন, সামামজিক সুরক্ষা খাতে। যেহেতু যেকোনো কর্তৃপক্ষের গৃহীত ঋণ অনুদানের দায়ভার বহন করতে হবে রীতিমতো তিন জেনারেশন পর্যন্ত সব সাধারণ নাগরিককে সেহেতু বৈদেশিক সাহায্য আর কতদিন, কেন, কোন কাজে এবং কী শর্তে নেয়া হচ্ছে এসব নিয়ে মিডিয়া এমনকি জাতীয় সংসদে আলোচনা-বিতর্ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণসতেচনতা বৃদ্ধি এবং জনমত যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা উচিত । (সংগ্রহীত এবং সংক্ষেপিত)

লেখক : উন্নয়ন অর্থনীতি বিশ্লেষক

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)