খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ফুলবাড়িগেটস্থ মীরেরডাঙ্গায় অবস্থিত বিভাগীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি বর্তমানে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে। সংস্কারের অভাব, আধুনিকায়নের ঘাটতি এবং তীব্র জনবল সংকটে হাসপাতালটি এখন নিজেই ‘রোগীতে’ পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের আবাসিক কক্ষগুলোর সিলিং থেকে চুন-সুরকি খসে পড়ছে। রোগী ও নার্সরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন শাহজাহান শেখ জানান, ছাদ ভেঙে পড়ার ভয়ে তিনি মশারির ভেতরে থাকেন। সীমানা প্রাচীর না থাকায় রাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন সংশ্লিষ্টরা, এমনকি পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে চুরির ঘটনাও ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৮৪টি মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে বর্তমানে ৬৮টি পদই শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সিনিয়র কনসালটেন্ট, প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও খালি পড়ে আছে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ইনডোরে রোগীর সংখ্যা দিন দিন কমছে।
এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালটিকে ‘জেনারেল হাসপাতালে’ রূপান্তরের দাবি তুলেছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “এখানে বিশাল জায়গা রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিলে বক্ষব্যাধি চিকিৎসার পাশাপাশি একে জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করা সম্ভব। এতে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ ইমরান হোসেন জানান, সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে বারবার জানানো হলেও বড় কোনো কাজ হয়নি। তিনি আরও বলেন, “জনবল সংকটে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণ করে এখানে আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিলে সেবার মান ও নিরাপত্তা—উভয়ই নিশ্চিত করা সম্ভব।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার দ্রুত এই হাসপাতালটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে একে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করবে।